পুঠিয়ায় স্কুলছাত্রীকে বেত্রাঘাত করে আহত করলেন শিক্ষিকা!

পড়া না পারায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে মোল্লাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে বেত দিয়ে অমানবিক ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা নুরজাহান আক্তার মিনু। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ আগস্ট স্কুল চলাকালিন সময়। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন বিচার পায়নি নির্যাতিত শিশুটির পরিবার।

এদিকে শিক্ষিকার মারের আঘাতে দিন দিন গুরুতর আহত হয়ে পরছে শিশুটি। নির্যাতিত ওই শিশুটির নাম জান্নাতুন আক্তার জুথি (১০) সে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের খোকসা গ্রামের দিন মজুর জহুরলাল আলীর মেয়ে ও মোল্লাপাড়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

শিশুটির পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট স্কুল চলাকালীন সময় পড়া না পারার অপরাধে শ্রেনীকক্ষেই বেত দিয়ে শিশুটির বাম পায়ের উরুতে ও পেটে আঘাত করে সহকারী শিক্ষিকা নুরজাহান আক্তার মিনু। মারধরের কথা কাওকে বললে আরো মারধরের হুমকিও দেয় ওই শিক্ষিকা। পরে মারের আঘাতের ব্যাথা অনুভব করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এলে চিকিৎসা না করিয়েই বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে গ্রাম্য ডাক্তার দ্বারা দু’দিন চিকিৎসা দেয় নির্যাতিত শিক্ষিকার অনুশারিরা। এতে শিশুটির অবস্থার অবনতি হয়ে গত ২৪ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবার। ওখানেও তার অবস্থা অবনতি হলে, আজ রবিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে বিষয়টি মিমাংশার প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত মিমাংশার চেষ্টাটি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুঠিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ সাঈদুল হক জানান, গত ২৪ তারিখে শিশুটি ভর্তি করা হলে চিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতালের সর্বচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু মারের আঘাত এতোটাই গভীরে পৌছেছে যে কোন মতেই ব্যাথা কমানো যাচ্ছে না। শিশুটি এখনও একা একা দাঁড়াতে পারছে না এবং প্রতিনিয়ত আঘাতের ব্যথায় কান্না করছে।

শিশুটিকে দেখতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক। মেয়র জানান, ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও আঘাতের চিহ্নগুলো দেখা যাচ্ছে পুুরো বাম পা আঘাতের কালো চিহুন ফুটে উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকার শাস্তি দাবী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক।

এ ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শোনা মাত্র আমি শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে খুব দ্রুত ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

নির্যাতিত শিশু জুথির বাবা জানান, ওই শিক্ষিকার বাড়ি ও তার বাড়ি পাশাপাশি ও একই গ্রামে। পারিবারিক ভাবে তাদের সাথে মনোমালিন্যও রয়েছে। তারই জের ধরে তার মেয়েকে অমানবিক ভাবে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্যাতনকারী শিক্ষিকার কঠিন শাস্তি দাবী করেন জুথির বাবা জহুলাল আলী।

তবে অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যপারে পুঠিয়া থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেও থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হওয়ায় তিনি করো পরোয়া করেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s