রামেকের হিমঘরে স্বজনদের অপেক্ষায় আন্তজার্তিক মডেল কন্যা রাওধা’র লাশ

স্বজনদের অপেক্ষায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে আন্তজার্তি মডেল কন্যা ও মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রী রাওধা  আতিফের লাশ। মালদ্বীপের থেকে স্বজনরা আসলেই তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

 

এদিকে রাওধার আত্মহত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতেই রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। হাসপাতালের সচিব আব্দুল আজিজ রিয়াজ বাদী হয়ে ওই মামলাটি করেন বলে নগরীর শহামখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

 

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন । তিনি বলে, রাউধা আতিফের মৃত্যুর সংবাদ স্বজনদের জানানো হয়েছে। স্বজনরা ইতি মধ্যেই মালদ্বীপ থেকে রাওনা হয়েছেন।

 

এর আগে বুধবার রাওধা আতিফ (২০) মৃতদেহ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশি কোটার ছাত্রী ছিল রাওদা। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ওই রুমে উঠেন তিনি। আতিফের মায়ের নাম আমিনা মহাসিমাত। বাড়ি মালদ্বীপে।

এর আগে রাওধা কলেজের মহিলা হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ২০৯ নম্বর রুমে থাকতেন। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে দরজা ভেঙ্গে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। রাওদা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী সার্কেলের সহকারী কমিশনার ইফতেখার আলম সংবাদ মাধ্যমে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে হোস্টেলে গিয়ে পুলিশ রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ দেখতে পায়।

রাউধার মেডিকেল কলেজে ভর্তির আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, মালদ্বীপের মালেতে তাঁর বাড়ি। বাবার নাম মোহাম্মদ আথিফ। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁর মা আমিনাথ মুহারমিমাথ একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা। রাউধা হিরিয়া স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ভিল্লা ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ভোগের সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘এই মেধাবী নারীরা বৈচিত্র্যের যোগ্য দূত’। ভোগ ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাউধা বলেছিলেন, ‘মডেলিং আমার কাছে পেশা নয়; শখই বেশি। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সাহায্য করা আমার কাছে সব সময়ের জন্য স্বপ্ন।’

ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ বলেন, আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আজ বৃহস্পতিবার তাঁদের রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s